ফড়িং মিডিয়া – অনলাইন ডেস্ক: চলতি বা আগামী বছরে সরকারি প্রকল্পগুলোয় প্রতিশ্রুত ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু হলে ২০১৮ সাল নাগাদ দেশে ব্যান্ডউইথ (ইন্টারনেট) ব্যবহারের সক্ষমতা বেড়ে হবে আড়াইগুণ। পরিমাণের দিক থেকে যা ছাড়িয়ে যাবে ১ টেরাবাইট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক বছরে দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার যে হারে বাড়ছে, তাতে আগামী বছর নাগাদ ব্যবহৃত ব্যান্ডউইথের পরিমাণ ১ টেরাবাইটে পৌঁছানো মোটেই অসম্ভব কিছু নয়।

বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত ব্যান্ডউইথের পরিমাণ প্রায় ৪২১ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড)। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ের ১৬০ ও বেসরকারি পর্যায়ের ২৬০ জিবিপিএসের মতো ব্যান্ডউইথ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কিন্তু দেশে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ সক্রিয় হলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে রাখা আইটিসিগুলোর (ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল) ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই প্রশ্ন এখন সামনে চলে আসছে।

দ্বিতীয় ক্যাবল সক্রিয় হলে আইটিসিগুলো রাখা হবে, নাকি বাদ দেওয়া হবে, এমন প্রশ্নে আইটিসি প্রতিষ্ঠান ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ টেকনোলজি অফিসার সুমন আহমেদ সাবির বলেন, ‘বিকল্পগুলো না রাখার কোনও সুযোগ নেই।’ কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘৬টি আইটিসি ও দেশের দু’টি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বাংলাদেশ অন্তত ৭-৮টি সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশ। দু’টি সাবমেরিন ক্যাবলের তুলনায় এটি তো ভালো।’

সুমন আহমেদ সাবির বলেন, ‘দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে গেলে আইটিসিগুলোর ব্যবসা কমবে, ব্যান্ডউইথের ভলিউম কমবে। এটা নিশ্চিত। কিন্তু তখন প্রতিযোগিতা বাড়বে, কোয়ালিটি অব সার্ভিস আরও উন্নত হবে। ফলে কখনোই বিকল্প ব্যবস্থা একেবারে শেষ হয়ে যাবে না।’ তিনি আরও জানান, ‘বর্তমানে ৪০০ জিবিপিএস প্লাস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হচ্ছে। ইন্টারনেট ব্যবহারের আমাদের যে হার, তাতে আগামী বছর প্রায় ১ টেরাবাইটে পৌঁছাবে দেশ। এ অবস্থায় বেশি বেশি বিকল্প ব্যবস্থা রাখা ছাড়া আমাদের কোনও উপায় নেই।’

জানা গেছে, যে দেশের অন্তত তিনটি সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ নেই, সে দেশে মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগল পপ (পিওপি) বসায় না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়ার পরে যদি আইটিসিগুলো থাকে, তাহলে গুগলকে বুঝিয়ে বললে দেশে পপ বসানোর বিষয়টি তারা আমলে নিতেও পারে। আর পপ বসলে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার আরও বাড়বে। এ জন্য হলেও আইটিসিগুলো থাকা জরুরি।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ২০০৬ সালে সাবমেরিন ক্যাবল সি-মি-ইউ-৪-এ যুক্ত হয়। শুরুতে বাংলাদেশ ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথের সক্ষমতা লাভ করে। পরে কারিগরি উন্নয়ন ঘটিয়ে আরও ১০০ জিবিপিএস যুক্ত করা হয় ল্যান্ডিং স্টেশনে। সম্প্রতি দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সি-মি-ইউ-৫-এ যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল থেকে বাংলাদেশ পাবে ১ হাজার ৫০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ। শিগগিরই ১০০ জিবিবিএস সক্ষমতা যুক্ত করে যাত্রা শুরু করবে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে দেশের ৬টি আইটিসি হলো সামিট কমিউনিকেশন লিমিটেড, ফাইবার অ্যাট হোম, নভোকম লিমিটেড, ওয়ান এশিয়া, বিডি লিংক কমিউনিকেশন লিমিটেড ও ম্যাংগো টেলিসার্ভিসেস লিমিটেড। আইটিসিগুলো ভারত থেকে বর্তমানে ২৬০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ আমদানি করছে।

যদিও বিএসসিসিএল দাবি করে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ২০০ জিবিপিএসের বেশি ব্যান্ডউইথ দেশে ব্যবহার হচ্ছে। এই পরিমাণ ব্যান্ডউইথের মধ্যে ভারতে লিজ দেওয়া (অনেকে রফতানি বলে থাকেন) ১০ জিবিপিএসও রয়েছে। যদিও প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা ৩০০ জিবিপিএস। এক সময় বিএসসিসিএল-এর ব্যান্ডউইথের ব্যবহারের পরিমাণ ৪০ জিবিপিএসে নেমে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি দাম কমালে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার বাড়তে থাকে।

এদিকে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিম মনে করেন, ‘ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের ব্যবহার ১ টেরাবাইটে পৌঁছতে পারে যদি সরকারের কোনও প্রকল্প এরই মধ্যে চালু হয়।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘সরকারের কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে চালুর অপেক্ষায়। এগুলো চালু হলে সরকারি অফিস, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়বে।

ব্রডব্যান্ড (উচ্চগতি) ইন্টারনেট পৌঁছবে ইউনিয়ন পর্যায়ে। সারাদেশে ১ লাখ কানেক্টিভিটি তৈরিরও উদ্যোগ রয়েছে। এসব সম্পন্ন হলে ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ ১ টেরাবাইটে পৌঁছতে পারে। তিনি জানান, বর্তমানে যে পরিমাণ ইন্টারনেট ব্যবহার হয় তার ৯২-৯৩ ভাগ বেসরকারি খাতে আর ৭-৮ ভাগ ব্যবহার হয় সরকারি খাতে। ফলে সরকারি খাতে ব্যবহার না বাড়লে আমরা কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাতে পারব না।