ফড়িং মিডিয়া – অনলাইন ডেস্ক: ‘ভ্যাজাইনা ফেসিয়াল’। শব্দটি বহুল প্রচারিত না হলেও মহিলামহলে অপরিচিত নয়। গোটা বিশ্বে বহু মহিলাই এ কাজ করে থাকেন। উদ্দেশ্য দুটি। এক, যোনি পরিষ্কার রাখা। দ্বিতীয়ত, যোনির গন্ধ দূর করা। আর এ কাজ করতে ভরসা শশাতেই। নেটদুনিয়ায় এ পদ্ধতির কথা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বহু মহিলাই তা করছেন। কিন্তু ব্যাপারটা কতটা স্বাস্থ্যসম্মত?

প্রথমে জেনে নেওয়া যাক ‘ভ্যাজাইনা ফেসিয়াল’ ঠিক কী? বিভিন্ন ব্লগের মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে যোনিকে ঠিক রাখতে শশা অত্যন্ত উপকারী। তাই গোল গোল করে কাটা শশার টুকরো যোনিতে বেশ কিছুক্ষণ রাখতে হবে। মিনিট কুড়ি পর আবার সেটিকে ঘুরিয়ে দিতে হবে। উপকার হিসেবে বলা হয়েছে, শশার নিজস্ব প্রাকৃতির গুণের কারণে যোনি সংক্রমণ মুক্ত হবে। এবং, শশার গন্ধের জন্য যোনির দুর্গন্ধ দূর হবে।

যেহেতু ঘরোয়া প্রক্রিয়া, এবং তেমন কোনও খরচ নেই, তাই বিশ্ব জুড়ে মহিলারা এ পদ্ধতির দ্বারস্থ হচ্ছেন। তাছাড়া যোনির সংক্রমণে কমবেশি প্রত্যেক মহিলাকেই ভুগতে হয়। তা থেকে যদি এত সহজে মুক্তি মেলে ও সে উপায় যদি হাতের কাছেই থাকে তবে তো কথাই নেই। ফলে শশার সাহায্যে ভ্যাজাইনা ফেসিয়ালের চাহিদা দিনে দিনে বাড়ছে।

কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন ঠিক উলটো কথা। তাঁদের আশঙ্কা, এতে হিতে বিপরীত হচ্ছে। যোনি তো সংক্রমণ মুক্ত হচ্ছে না। উলটে শশা রাখার ফলে স্বাভাবিক অম্লক্ষার ভারসাম্য বা পিএইচ ব্যালেন্স হারিয়ে যাচ্ছে। যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। এছাড়া এই পদ্ধতি গণোরিয়ার মতো রোগ ডেকে আনতে পারে বলেও মত তাঁদের।

চিকিৎসকরা বলছেন, নারীশরীরে যোনি এমন একটি অঙ্গ, যা নিজেই নিজেকে পরিষ্কার করে নেয়। স্বয়ংক্রিয় শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় যোনি পরিচ্ছন্ন থাকে। তার জন্য বাড়তি উপকরণের কোনও দরকার নেই। শশা ছাড়াও অন্যান্য সবজিও মহিলারা প্যাচ হিসেবে ভ্যাজাইনা ফেসিয়ালে ব্যবহার করেন। তাতেও না বলছেন ডাক্তারবাবুরা। কেননা এতে কোনও উপকার হয় না। এমনকী যোনি পরিষ্কারের জন্য বাজার চলতি যে লোশন ইত্যাদি বিক্রি হয়, তার ব্যবহারেও চিকিৎসকদের মত নেই।

তাঁদের দাবি, এই ধরনের লোশনে আদতে ওই পিএইচ ব্যালেন্স ঠিক থাকে না। এরফলে গণোরিয়া বা এইচআইভি-র মতো অসুখে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় মহিলাদের। যোনি নিজেই নিজেকে পরিষ্কার করতে পারে। তা কখনওই নোংরা নয়। এবং, তার গন্ধও দুর্গন্ধ নয়। এই বিশ্বাস মহিলাদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পালটা ব্লগ লেখা শুরু করেছেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা। যাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য কানাডার চিকিৎসক ডাঃ জেন গান্টার। অযথা চলতি ফ্যাশনে গা না ভাসানোরই পরামর্শ তাঁর।